ওয়েব ডিজাইন বা হোস্টিং ব্যবসা করেন? খেয়াল করে দেখুন — প্রতিটা ক্লায়েন্টেরই একটা ডোমেইন লাগে। সেটা যদি আপনি নিজে দিতে পারেন, প্রতি ক্লায়েন্টে বাড়তি আয় হয়। আর ডোমেইনের আসল শক্তি হলো রিনিউয়াল — প্রতি বছর ওই আয় ফিরে আসে।
নিজে ICANN রেজিস্ট্রার হওয়া যায় না কেন
ICANN স্বীকৃতি পেতে আবেদন ফি, বার্ষিক ফি, ব্যাংক গ্যারান্টি আর কারিগরি অবকাঠামো মিলিয়ে কয়েক লাখ টাকা লাগে, সময় লাগে প্রায় এক বছর। ছোট ব্যবসার জন্য এটা বাস্তবসম্মত নয়। রিসেলার প্ল্যান এই পুরো ঝামেলা এড়িয়ে একই কাজ করতে দেয়।
রিসেলার হিসেবে যা পাবেন
- পাইকারি দাম — প্ল্যান অনুযায়ী প্রতিটি ডোমেইনে ১৫–২৫% ছাড়, রিনিউয়ালেও একই।
- নিজের লাভ নিজে ঠিক করা — মার্কআপ শতাংশ বসিয়ে দিলে বিক্রয়মূল্য নিজে থেকেই হিসাব হয়।
- প্রাইস লিস্ট — আপনার দামের তালিকা CSV-তে নামিয়ে ক্লায়েন্টকে পাঠান।
- রেডিমেড স্টোরফ্রন্ট — একটি ফাইল নিজের সাইটে বসালেই আপনার নামে ডোমেইন সার্চ চালু।
- API ও WHMCS মডিউল — নিজের বিলিং সিস্টেম থাকলে সরাসরি যুক্ত করা যায়।
আয়ের হিসাব
ধরুন .com এর পাইকারি দাম ১২৩০ টাকা, আপনি বিক্রি করলেন ১৫০০ টাকায় — প্রতি ডোমেইনে ২৭০ টাকা লাভ।
- মাসে ২০টি বিক্রি = ৫,৪০০ টাকা
- বছরে ২৪০টি = ৬৪,৮০০ টাকা
- পরের বছর ওই ২৪০টি রিনিউ হলে আবার একই আয় — নতুন বিক্রি ছাড়াই
তিন বছরে গ্রাহক সংখ্যা জমতে থাকলে রিনিউয়াল থেকেই একটা স্থিতিশীল আয় দাঁড়িয়ে যায়। এটাই এই ব্যবসার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।
শুরু করবেন কীভাবে
- প্ল্যান দেখে একটি বেছে নিন — ফ্রি দিয়েও শুরু করা যায়।
- রিসেলার প্যানেলে নিজের মার্কআপ ও ব্র্যান্ড নাম বসান।
- অ্যাকাউন্টে কিছু ব্যালেন্স রাখুন, যাতে ক্লায়েন্টের অর্ডার এলে সাথে সাথে বসাতে পারেন।
- প্রাইস লিস্ট নামিয়ে ক্লায়েন্টদের জানান।
কিছু বাস্তব পরামর্শ
দাম নিয়ে যুদ্ধে নামবেন না। বড় কোম্পানির সাথে সস্তা দামে লড়ে লাভ নেই। বরং সেবা দিয়ে জিতুন — বাংলায় সাপোর্ট, দ্রুত উত্তর, DNS বসিয়ে দেওয়া। মানুষ ৫০ টাকা বেশি দিতে রাজি থাকে যদি সমস্যায় কাউকে ফোনে পায়।
মেয়াদের হিসাব রাখুন। ক্লায়েন্টের ডোমেইন মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলে দোষ আপনার ঘাড়ে পড়বে। রিমাইন্ডার ব্যবস্থা চালু রাখুন।