নিজের ডোমেইন থেকে ক্লায়েন্টকে ইনভয়েস পাঠালেন, কিন্তু সে বলল কিছুই পায়নি। খুঁজে দেখা গেল মেইলটা স্প্যাম ফোল্ডারে পড়ে আছে। বাংলাদেশে ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে এটা খুব সাধারণ সমস্যা, আর এর সমাধানও কঠিন নয়।
সমস্যার মূল কারণটা বোঝা দরকার। ইমেইল ব্যবস্থাটা তৈরি হয়েছিল এমন এক সময়ে যখন কেউ মিথ্যা বলবে ভাবা হয়নি। ফলে যে কেউ যেকোনো ঠিকানা থেকে মেইল পাঠানোর ভান করতে পারে। প্রতারকরা এই সুযোগটাই নেয়। তাই জিমেইল বা আউটলুক এখন প্রতিটি মেইল যাচাই করে দেখে — সত্যিই কি এই ডোমেইনের মালিক এটা পাঠিয়েছে?

SPF — কারা পাঠাতে পারবে
SPF হলো একটা তালিকা, যেখানে লেখা থাকে কোন কোন সার্ভার আপনার ডোমেইনের নামে মেইল পাঠাতে পারবে। গ্রহণকারী সার্ভার মেইল পেয়ে দেখে — যে IP থেকে এসেছে সেটা তালিকায় আছে কি না। না থাকলে সন্দেহ করে।
দেখতে এমন হয়:
v=spf1 +a +mx +ip4:103.15.44.2 ~all
এখানে +a মানে ডোমেইনের নিজের IP, +mx মানে মেইল সার্ভারগুলো, আর ~all মানে বাকি সবাইকে সন্দেহজনক ধরো (কিন্তু একেবারে বাতিল কোরো না)।
DKIM — চিঠিতে সিলমোহর
DKIM প্রতিটি মেইলে একটা গোপন স্বাক্ষর বসিয়ে দেয়। গ্রহণকারী সার্ভার আপনার DNS থেকে সর্বজনীন চাবি নিয়ে মিলিয়ে দেখে। মিলে গেলে নিশ্চিত হয় — মেইলটা সত্যিই আপনার সার্ভার থেকে এসেছে, আর মাঝপথে কেউ বদলায়নি।
cPanel ব্যবহার করলে এটা চালু করা সবচেয়ে সহজ: Email Deliverability পাতায় গিয়ে ডোমেইনের পাশে Repair চাপলেই সিস্টেম নিজে থেকে রেকর্ড বসিয়ে দেয়।
DMARC — না মিললে কী করবে
SPF বা DKIM ব্যর্থ হলে গ্রহণকারী সার্ভার কী করবে, সেটা DMARC বলে দেয়। তিনটি স্তর আছে:
p=none— কিছু কোরো না, শুধু রিপোর্ট পাঠাওp=quarantine— স্প্যাম ফোল্ডারে রাখোp=reject— একেবারে বাতিল করো
শুরুতে সবসময় p=none দিয়ে শুরু করবেন। কয়েক সপ্তাহ দেখে নিশ্চিত হন যে আপনার বৈধ মেইলগুলো যাচাইয়ে পাশ করছে, তারপর ধাপে ধাপে কড়া করবেন।
p=reject বসালে আপনার নিজের ইনভয়েস বা রিমাইন্ডার মেইলও বাতিল হয়ে যেতে পারে — আর আপনি টেরও পাবেন না, কারণ ব্যর্থ হওয়ার খবর প্রেরকের কাছে ফেরত আসে না।ধাপে ধাপে বসানো
- SPF — DNS-এ TXT রেকর্ড, Host
@। মেইল সেবা যে মান দেবে সেটাই বসাবেন। - DKIM — cPanel → Email Deliverability → Repair। বাইরের সেবা হলে ওরা যে রেকর্ড দেবে সেটা বসাবেন।
- DMARC — TXT রেকর্ড, Host
_dmarc, মানv=DMARC1; p=none; - ১৫ মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করুন
কাজ হয়েছে কি না বুঝবেন কীভাবে
সবচেয়ে সহজ উপায় mail-tester.com। ওখানে গেলে একটা ঠিকানা দেবে, সেই ঠিকানায় আপনার সিস্টেম থেকে একটা মেইল পাঠান, তারপর সাইটে ফিরে স্কোর দেখুন।
- ৮ থেকে ১০ — চমৎকার, মেইল ইনবক্সে যাবে
- ৫ থেকে ৭ — কিছু বাকি আছে, ওরা কী বাকি সেটাও দেখিয়ে দেবে
- ৫ এর নিচে — গুরুতর সমস্যা, রেকর্ডগুলো আবার মিলিয়ে দেখুন
তিনটে ঠিক থাকার পরেও স্প্যামে গেলে
নতুন ডোমেইনের ক্ষেত্রে এটা হতে পারে। জিমেইল নতুন ডোমেইনকে কিছুদিন সন্দেহের চোখে দেখে — এটাকে বলে সুনাম গড়ে ওঠা। কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত মেইল গেলে, আর প্রাপকরা খুললে ও পড়লে, অবস্থা নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।
শুরুতে একসাথে অনেককে মেইল পাঠাবেন না — ধীরে শুরু করাই নিরাপদ।